Prophet's Birthday

Prophet's Birthday

Eid e-Milad-un Nabi | Prophet's Birthday

Breaking

Monday, November 19, 2018

ইসলামে ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের বিধান

November 19, 2018 0
ইসলামে ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের বিধান
 
প্রথম কথা
সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহরই একক পাওনা। দরূদ ও সালাম ঐ মহাজনের উপর যাঁর পরে আর কোন নাবী আসবেন না। তাঁর পরিবারবর্গ ও সাথীদের প্রতিও বর্ষিত হোক শান্তির ধারা। এরপর কথা হলোঃ কোন নেক আমল মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণ যোগ্য হতে হলে তা (উক্ত আমল) দু’টি মৌলিক শর্ত সাপেক্ষে সম্পাদিত হতে হবে নতুবা কস্মিনকালেও তা মহান মালিকের দরবারে গৃহীত হবে না।
১.    আমলটি একমাত্র মহান আল্লাহকেই খুশী করার জন্য হবে, তাতে দুনিয়াবী কোন স্বার্থ বা মানুষের ‘বাহবা’ কুড়ানোর নিয়্যাত থাকলে হবে না।
২.    একমাত্র নাবী মুহাম্মদুর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শেখানো পদ্ধতিতেই আমলসমূহ সম্পাদিত হতে হবে, তাঁর অনুমোদন ছাড়া ধর্মের নামে যাই করা হোক না কেন, সবই বিদ্’আত ও ভ্রষ্টতা এ কথা চিরসত্য। সুতরাং বাপ-দাদা হতে চলে আসা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী রসম-রেওয়াজ, পীর-পরোহিত ও ঠাকুর-সন্ন্যাসীদের বানাওয়াট পথ ও পন্থা, মুরুব্বীদের শেখানো মিথ্যা বুলি আর নেতাজীদের আবিষ্কৃত সমাজ ধ্বংসী তন্ত্র-মন্ত্র অবশ্যই বর্জনীয়। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ অর্থাৎ যে ব্যাক্তি স্বীয় পালন কর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন ভাল কাজ করে এবং তার প্রভূর ইবাদাতে কাউকে শারীক না করে। (সূরা-আল্-কাহ্ফ-১১০)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফেয ইমাদুদ্দীন ইবনু কাছীর (রাহেমাহুল্লাহ) বলেন, আর এ দু’টোই হলো আ’মল ক্ববূলের শর্ত।’

  সুপ্রিয় পাঠক/পাঠিকা! উপরোক্ত আলোচনায় জানা গেল যে, ধর্মের নামে মনগড়া যা কিছুই করা হোক সবই বাতিল-অগ্রাহ্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজকে আমাদের সমাজে ধর্মের নামে শির্ক, বিদৎআত ও জাহেলিয়অতের সয়লাব বয়ে চলেছে। তন্মধ্যে যেগুলি সবচেয়ে বেশি সংক্রামিত হয়েছে ‘মিলাদ মাহফীল’ তার একটি। মীলাদুন্নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নামে বিদ’আতী অনুষ্ঠান আমাদের দেশে আজকাল ঘরে ঘরে। পেট পুজারী আলেম সমাজ, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী আর ধর্ম ব্যবসায়ী মহল নিজেদের সমাজে চালু করে, আর তা জিইয়ে রাখে যুগ যুগ ধরে। নিরীহ মুসলিম মিল্লাত এহেন মহাপাপ থেকে পরিত্রান পাবে এ আশা নিয়েই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

‘মীলাদ’ এর অর্থঃ
জন্মের সময়কালকে আরবীতে ‘মীলাদ’ বা ‘মাওলিদ’ বলা হয়। এই হিসেবে ‘মীলাদুন্নবী’র অর্থ হলোঃ ‘নাবীর জন্ম মুহূর্ত’। আর এটাই ইসলামী সমাজে ‘মীলাদ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

মীলাদ ও ক্বিয়ামের সূচনাঃ
প্রখ্যাত আলিম ও ঐতিহাসিকদের মতে; ইরাকের ‘এরবল’ এলাকার গভর্ণর আবূ সাঈদ মুযাফ্ফারুদ্দীন কুকুবুরী ৬০০ হিজরীর পরে কিছু সংখ্যক ভাড়াটিয়া কবি, গায়ক ও বক্তাদের দ্বারা মীলাদের প্রচলন ঘটান।নবী প্রেমের মিথ্যা মহড়া দেখিয়ে জনসাধারণের মন জয় করাই ছিল একমাত্র তার উদ্দেশ্য। ‘মীলাদ মাহ্ফিলে’ ‘ক্বিয়াম’ প্রথা ৭০০ হিজরীর পরে চালু হয় বলে গবেষকরা ধারণা করেন।

মীলাদের আনুষ্ঠানিকতাঃ
সাধারণত মীলাদ অনুষ্ঠানে আগরবাতি, মোমবাতি ও ধুপকাঠি জ্বালানো হয় এবং আতর লাগানো ও ছিটানো হয়ি। এছাড়া কোন কোন এলাকার মীলাদ অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ ও গান-বাজনার প্রচলন দেখা যায়। অপরদিকে বিদ’আতী আলেমগণ রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর প্রতি দুরূদ পাঠ, প্রশংসা ও গুনাগুন বর্ণনা করার নামে আরবী, ফার্সী, উর্দু ও বাংলা ভাষায় বানাওয়াটী কবিতা ও ছন্দ আওড়িয়ে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণকারীদের মাতিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরপর সম্মিলিত কন্ঠে সূর ও তাল মিলিয়ে ‘ইয়া নাবী ছালামু আলাইকা’ পড়তে থাকেন; এরপর মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দেখা গেছে মীলাদ পাঠকারী মৌলবী সাহেবেরা একই রাত্রে বহু বাড়ীতে মীলাদ পড়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ নিজেদের বাড়ীতে বছরে একদিনও মীলাদ ড়ার ফরসত পান না, এমনকি প্রয়োজনও মনে করেন না। বিষয়টা ভেবে দেখার নয় কী?
    লক্ষণীয় যে, মীলাদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ভাইদের অনেকেই বাৎসরিক দুই ঈদ, শবে-বরাতের রাত, এবং ১২ই রবিউল আওয়ালের মীলাদ-মাহইফলের মাধ্যমে সারা বৎসরের ইবাদত বন্দেগীর ঝামেলা (?) এই ৪ দিনেই চুকিয়ে ফেলতে চান, এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আরো লক্ষ্যণীয় যে, একদিকে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্ম মুহুর্তকে কেন্দ্র করে মীলাদ অনুষ্ঠান, অপর দিকে কোন নতুন বাড়ী, দোকান বা কোন মৃত ব্যক্তির নামেও মীলাদ অনুষ্ঠনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে, এই দুই ধরণের মীলাদ অনুষ্ঠানের মাঝে সামঞ্জস্যতা কী আছে?

মীলাদ প্রসঙ্গে জাল হাদীচ ও ভিত্তিহীন ধারণাসমূহঃ
মীলাদ প্রসঙ্গে যুগে যুগে বিদ্’আতীরা কত যে জাল হাদীছ ও ভিত্তিহীন গল্পের উদ্ভব ঘটিয়েছে, তার সংখ্যা নির্ণয় করা বড় কঠিন। এখানে কয়েকটি মিথ্যা-হাদীছ ও ভ্রান্ত ধারণা তুলে ধরা হলোঃ
১.    হে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি না হলে আসমান-যমীন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। (নাউযুবিল্লাহ)।
২.    মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ। তা’লা আরশ-কুরসী বেহেশ্ত-দোযখ, আসমান-যমীন, কিছুই সৃষ্টি করতেন না। (নাউযুবিল্লাহ)।
৩.    আল্লাহ্র নূর হতে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর সৃষ্টি আর মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নূর হতে সমস্ত দুনিয়া সৃষ্টি। (নাউযুবিল্লাহ)।
৪.    মীলাদ মাহ্ফিল রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর রূহ মসুবারক এসে বসবে, এধারণা নিয়ে অনেকেই একটা চেয়ার সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে। (নাউযুবিল্লাহ)।
৫.    মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়েবের খবর রাখেন এবং মানুষের ভাল-মন্দ করারও ক্ষমতা রাখেন। (নাউযুবিল্লাহ)।
৬.    এছাড়া অনেকেই ধারণা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কবরে উনার দেহ মুবারকের সাথে লেগে থাকা মাটিগুলো মহান আল্লাহ্র আরশের চেয়েও মর্যাদাবান। (নাউযুবিল্লাহ)।

উপরের কথাগুলি সবই জাল ও মিথ্যা এবং এসব বিশ্বাস করা নিঃসন্দেহে কুফরী কাজ। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, অর্থাৎ হে নবী! আপনি বলুনঃ আামিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি অহী নাযিল হয় যে, নিশ্চয়ই তোমাদের উপাস্যই একমাত্র উপাস্য। (সূরা আল্-কাহ্ফ ১১০)।
    রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক আমার নামে মিথ্যা হাদীছ রটনা করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঘর তৈরী করে নিল।’ (বুখারী)। রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেনঃ ‘সাবধান! তোমরা ধর্মের বিষয়ে অতিরঞ্জিত করোনা। তোমাদের আগে যারা ছিল তারা ধর্মীয় বিষয়ে অতিরঞ্জিত করার ফলেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেনঃ ‘তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করোনা, যেভাবে নাছারাগণ ঈসা (আলাইহিছ্ছালাতু ওয়াস্সালাম) সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছে। নিশ্চই আমি আল্লাহ্র বান্দা, কাজেই তোমরা আমার সম্পর্কে এতটুকু বলতে পার যে, ‘আমি আল্লাহ্র বান্দা ও তাঁর রাসূল’। (বুখারী ও মুস্লিম)
    হানাফী মাযহাবের ‘ফিক্হে আকবর’ কিতাবে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আল্লাহ্র নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গাযেব জানতেন, সে ব্যক্তি কাফের।’ তাদেরই আরেকটি কিতাব ‘ফাতওয়া বায্যাযিয়াতে’ বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মৃত ব্যক্তিদের রূহ হাযির হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি কাফের।’ অনুরূপভাবে ‘তুহ্ফাতুল কুযাত’ কিতাবে বলা হয়েছে, ‘যারা ধারণা করে যে, মীলাদের মজলিসগুলিতে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর রূহ মুবারক হাযির হয়ে থাকে- তাদের এই ধারণা স্পষ্ট শির্ক।’

‘মীলাদ বিদ্‘আত’ ইহার দলীলসমূহ
১.    আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে খুশী করার মাধ্যমে ছওয়াব হাছিল করার উদ্দেশ্যে ধর্মের নামে এমন কোন নতুন কাজের উদ্ভব ঘটানো- যার কোন প্রমাণ কুরআন ও ছহীহ্ হাদীছ থেকে পাওয়া যায় না, সেটাই বিদ্‘আত। আর এই বিদ্আতের পরিণাম গোমরাহী ও জাহান্নাম।
২.    রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ইসলামী শরীযতে এমন কোন নতুন উদ্ভব ঘটাবে যা ওতে নেই তা পরিতাজ্য-অগ্রহণযোগ্য।
৩.    কুরআন মাজীদে ইসলামী বিধান সম্পর্কে নাযিলকৃত আয়াতসমূহের সর্বশেষ আয়াতে মহান আল্লাহ্ ঘোষণা দিয়েছেনঃ অর্থাৎ ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম’ (আল্-মায়েদাহ-৩) আল্লাহ্ তা’লার এ চুড়ান্ত ঘোষণার প্রায় ৬০০ বৎসর পরে কিছু সংখ্যক বিদ্আতীদের দ্বারা প্রচলিত মীলাদ কিভাবে ইসলামী অনুষ্ঠান হতে পারে?

৪.    চার মাযহাবের সেরা আলেমগণ সর্বসম্মতভাবে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ্আত বলেছেন।
৫.    এছাড়া উপমহাদেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কিরাম যেমনঃ মুজাদ্দিদে আলফেছানী-শায়খ্ আহ্মান সারহিন্দী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রাশীদ আহ্মান গাংগোহী, মাওলানা আশ্রাফ আরী থানভী, ম্মাুদুল হাসান দেউবন্দী, এছাড়াও আহ্লে হাদীছ আলেমগণ একবাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদ্’আত ও গুনাহের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উপসংহারে বলব, যদি মীলাদ মাহ্ফিল আল্লাহ্ কর্তৃক মনোনীত দ্বীনের অংশ হতো, তাহলে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চই উম্মাতের কাছে পরিষ্কারভাবে তা বর্ণনা করে যেতেন। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)তাঁর নিজের বা পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের কারো জন্মবার্ষিকী পালন করেননি। এরপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর হাজার হাজার ছাহাবী যাঁর নিজেদের জীবনের চেয়েও রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বেশি ভালোবাসতেন, তাঁরাও এই মীলাদ উৎসব পালন করেননি। এমনকি তাবেঈনে ইযাম ও পরবর্তী ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম শাফিয়ী, ইমাম মালিক ও ইমাম আহ্মানদ বিন হাম্বাল (রাহেমাহুমুল্লাহ) সহ হাজার হাজার আলেম-উলামা যাঁরা ইসলামী শরীয়ত আমাদের চেয়ে ানেক বেশি বুঝতেন ও সেই অনুযায়ী আমল করতেন, তাঁরাও কোন দিন মীলাদ মাহইফল কায়েম করেননি। এছাড়া বর্তমান ইসলামী বিশ্বের আরব দেশগুলির যেমন- সউদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহ্রাইন, আরব-আমীরাত, ইয়ামান, ইত্যাদির শত-শত জগদ্বিখ্যাত আলেমগণও এ মীরাদ পালন করেন না। তাহলে আমরা কিসের ভিত্তিতে মীলাদ পড়ব?

পরিশেষে আমরা এইটাই জানতে পারলাম যে, কুরআন ও ছহীহ্ হাদীছ থেকে এবং ছাহাবা-কিরাম ও উলামায়ে মুজতাহিদীন থেকে মীলাদের স্বপক্ষে কোন দলীল ও প্রমাণ নেই, সেহেতু মীলাদ ইসলামী শরীয়াতে একটি নব অবিষ্কৃত কাজ; যার  পরিনাম গোমরাহী ও জাহান্নাম। অতএব আমরা আল্লাহ্র কাছে এই দু’য়া করব যে, হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে দূরে থাকার পূর্ণ তাওফীক্ব দান কর। আমীন!
নিশ্চই আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর মু’মিন বান্দাদেরকে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর প্রতি দরূদ পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন। আর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, এর প্রতিদানে আল্লাহ্ তা’আলা তার প্রতি দশবার রহমত নাযিল করবেন। অনেকে মনে করেন যে, এই দরূদ শরীফ মীলাদ মাহ্ফিলে সমষ্টিগত ভাবে পড়তে হবে, তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভূল।
 
শুধুমাত্র প্রস্রাব-পায়খানা করার সময় ব্যতীত চলতে-ফিরতে , উঠতে-বসতে, বিপদে-আপদে মোট কথা সর্বাবস্থায় দরূদ পাঠ করা জায়েয আছে। তবে নামাযে তাশাহুদের পরে, আযানের পরে, জুম’আর দিনে ও রাত্রে এবং রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এরনাম উচ্চারণ  ও শ্রবণের পরে, দু’আর ভিতরে এবং এ ধরণের আরো অন্যান্য সময়ে দরূদ শরীফ পড়া অগনিত চহীহ্ হাদীছ থেকে প্রমাণিত। অতএব এ ধরনের আমল প্রতিটি মুসলমানের হওয়া উচিৎ। পক্ষান্তরে সম্মিলিতভাবে কন্ঠ ও তাল মিলিয়ে উচ্চস্বরে কোন নির্ধারিত সময়ে ও সমাবেশে দরূদ শরীফ পড়া বিদ্’আত, এতে কোনই সন্দেহ্ নেই। সুতরাং তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। বলাবাহুল্য নেকীর আশায় শির্ক ও কুফরী কালামে ভরপুর বিদ্’আতী ছড়া, কবিতা, ক্বাছীদাহ, লুরী ও কাওয়অলী গাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। চাই তা ছোট-খাটো বিদ্’আতী মৌলবীদের মুখেই শোনা যাক, অথবা বড় বড় বিদ্’আতী, ইসলামের ধ্বজাধারী ও ঠিকাদারদের মুখেই শোনা যাক। 

    হে আল্লাহ্! তুমি মুসলিম মিল্লাতকে শির্ক ও বিদ্’আত পরিহার করে নিখাদ তাওহীদ ও ছহীহ্ সুন্নাহর অনুসরণ করার তাওফীক্ব দান কর। আমীন!

>    বুঝে পড়–ন, অপরকে পড়তে দিন, পারলে দু/চার কপি দোকান-পাট ও মাস্জিদ-মাদ্রাসায় লাগিয়ে দিন! যাতে সবাই উপকৃত হতে পারে আর আপনিও হাছেল করতে পারেন অশেষ নেকী।
ক্স    বিস্তারিত জানার জন্য ডঃ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল্-গালিব (হাফেযাহুল্লাহ) প্রনীত ‘মীলাদ প্রসঙ্গ’ পড়–ন।